বেল্লালের পিঠে ৭১
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
" বেল্লালের পিঠে ৭১"
১৩ই এপ্রিল ঠিক কত মানুষ মারা গেছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নাই। আমরা সেদিন বাড়ির পাশে জঙ্গলের মধ্যে গর্তে লুকিয়ে ছিলাম। তবে সেপ্টেম্বর মাসে তারা আমার আব্বাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার আব্বা ব্রিটিশ আর্মির সৈনিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে অনেক আনসারকে প্রশিক্ষণ দেন। সেই অপরাধে তারা আব্বাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য শান্তি কমিটির সভাপতি জয়েন উদ্দিন সরকারের হস্তক্ষেপে আব্বা মুক্তি পায়। আমাদের জিন্নাহ ভাই (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন) সেদিন বেঁচে গেছিল তাঁর নামের কারণে। আরেক বৃদ্ধ যুবক ছেলেদের অকাল প্রয়াণ দেখে স্বচ্ছায় মৃতবরণ করেন। এমন অসংখ্য পরিবারের অসংখ্য ঘটনা আছে। ১৩ই এপ্রিলের মত এত ব্যাপক হত্যাকাণ্ড দেশের আর কোন স্থানে সংগঠিত হয়েছে কিনা আমাদের জানা নাই। ১৩ ই এপ্রিলের ঘটনার পর আমাদের গ্রামকে সবাই "বিধবাদের গ্রাম" বলে ডাকতে শুরু করে। বিধবাদের পুনঃবাসনের জন্য ১৯৭২ সালে ত্রাণ মন্ত্রী কামরুজ্জামানেরর সার্বিক সহযোগিতায় সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে 'থানাপাড়া সোয়ালোজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি' নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠে। বেল্লাল এখন দুই সন্তানের জনক (বর্তমানে মৃত)। সুখ-দুঃখ সাথে নিয়ে সে সংসার করছে। বেল্লালের ক্ষত এখনো পুরোপুরি সেরে উঠেনি। বেল্লালের ন্যায় বাংলাদেশের ক্ষত এখনো সেরে উঠেনি। বেল্লাল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ, আর তাঁর পিঠ যেন এক টুকরো ৭১.
মূল লেখকঃ অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল ইসলাম
বর্তমান লেখকঃ মোঃ আরিফুল ইসলাম
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন