পোস্টগুলি

চারঘাট-বাঘার দুঃস্থদের মাঝে পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ত্রাণ বিতরণ

ছবি
পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আজ চারঘাট-বাঘার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। চারঘাট থানার সারদা বাজারে পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ও চারঘাট সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের যৌথ উদ্যোগে ৫০ টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রীর মাঝে ছিল ৪ কেজি চাল,  ১ কেজি ডাল, ১ টা লাউ ও ১ কেজি আলু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ তৌকির আহমেদ শুভ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান ইমন, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওজায়ের আহমেদ সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও চারঘাট সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল। অন্যদিকে আজ সকাল থেকেই নির্বাহী সভাপতি আসাদুজ্জামান রাজুর নেতৃত্বে বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নে ৩০০ পরিবারের মাঝে লিফলেট, মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হয়েছে।  কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আজিজুল আলম। সেখানে উপস্থিত ছিল যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাদি মোঃ অমি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা মুসতারি চৈতি ও  সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান আহমেদ রাফিদ। এ ব্যাপারে পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি তৌ...

পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নতুন কমিটি

ছবি
পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোঃ তৌকির আহমেদ শুভ, নির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান রাজু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মেহেদি হাসান ইমন। এছাড়াও বিভিন্ন পদে আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদায়ী সভাপতি মোঃ আরিফুল  ইসলাম অভি ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম মর্তুজা আবির আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন। উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ও চারঘাট থানার বাইরের কোন শিক্ষার্থীকে সংগঠনের শীর্ষ পদে আনা হল। আসাদুজ্জামন রাজুর বাড়ি বাঘা থানার পাকুরিয়া ইউনিয়নে। অন্যদিকে তৌকির আহমেদ শুভ ও মেহেদি হাসান ইমনের বাড়ি চারঘাট থানার সরদহ ইউনিয়নে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ঢাকাস্থ কাটাখালী, বেলপুকুর, চারঘাট ও বাঘা থানার (বৃহত্তর চারঘাট থানা) শিক্ষার্থী...

পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও স্মরণিকা উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্টিত

ছবি
পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও স্মরণিকা উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৩ ডিসেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ শাহরিয়ার আলম এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জনাব মোঃ আব্দুর রহিম, বীমা কর্পোরেশনের পরিচালক জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম, পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ, কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক জনাব মাহফুজ মিশু,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকতা জনাব সুফী আব্দুল্লাহিল মারুফ, ব্যবসায়ী সাফানুর রহমান শীবলী, গাজীপুরস্থ বাঘা সমিতির সভাপতি সুজন মাহমুদ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভপতি জনাব মাকসুদ কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম অভি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পদ্মা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা আবির ও সঞ্চালনা করেন মোঃ রাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানে বৃহ...

চারঘাটের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/আদিবাসী সম্প্রদায়

ছবি
নব পলল দ্বারা গঠিত রাজশাহীর চারঘাটের বেশির ভাগ মাটি। হিন্দু-মুসলমানদের পাশাপাশি কিছু সাঁওতাল-পাহাড়িয়ার বাস আমাদের চারঘাটে। বরেন্দ্র অঞ্চলে বাংলার বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস। চারঘাটের সাঁওতাল-পাহাড়িয়া-তুরিরা কবে থেকে চারঘাট অঞ্চলে বসবাস করছেন, তার সঠিক কোন ধারণা পাওয়া বেশ কঠিন। তাঁদের আদি নিবাস বরেন্দ্র অঞ্চলে নাকি ভারতের বিহার রাজ্য থেকে তাঁরা এসেছেন, তার হিসার মেলাও দায়। চারঘাটে সব মিলিয়ে ৮৫২ জনের মত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকের বাস (২০১৮).  চারঘাট, নিমপাড়া ও শলুয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে তাঁদের বাস। নিজেদের আত্নপরিচয় ভুলে এখন তাঁরা হিন্দু পরিচয়ে পরিচিত হতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। চারঘাট উপজেলায় মোট ২৩২ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী পরিবার আছে। চারঘাট ইউনিয়নের পরানপুর আর হ্যারিনি পাড়ায় থাকেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কিছু পরিবার। পরানপুরে মোট ২৭ ঘর সাঁওতালের বাস। নিজেদের সনাতন ধর্মের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়েছেন তাঁরা। হিন্দু ধর্মের দেব-দেবীই তাঁদের উপাস্য। নিজস্ব ভাষার কোন প্রচলন নেই, নেই কোন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। অন্যের জমিতে তাঁদের বাস। মাত্র তিনটি পরিবারের নিজ...

পুরাতন নন্দনগাছীর চৈত্র সংক্রান্তির মেলা

ছবি
চারঘাটের অনার্য সম্প্রদায়ের যে সংস্কৃতিটি এখনো স্বগর্বে টিকে আছে সেটা হল চৈত্র সংক্রান্তির মেলা। ঠিক কত বছর ধরে এই মেলার প্রচলন তার কোন তথ্য পাওয়া মুশকিল। তবে চারঘাটের বড়াল পাড়ের এই মেলাটি উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ছিল বলে জানা যায়। চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের জোত কার্তিক বিএন স্কুল মাঠে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে েরর আয়োজন করা হয়। আরো দু এক জায়গায় এর আয়োজন হলেও এটাই মূল চৈত্র সংক্রান্তির মেলা। বেশ জাঁক জমক ভাবেই আয়োজন করা হয় এই মেলার। এই মেলার আয়োজন করে থাকে স্থানীয় কুটিপাড়ার বাসিন্দারা,যারা নাকি সবাই অনার্য। তারা মূলত তুরি সম্প্রদায়ের। এই মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ষষ্ঠী সর্দার আর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ। প্রতি বছর তারা চাঁদা তুলে মেলা আর পূজার আয়োজন করে থাকে। টাকার পরিমাণ দাড়ায় ৫০০০/৬০০০ টাকা। কোন অনুদান পাওয়া যায় না বলে মেলা কমিটির সভাপতি আমাদের জানান। মেলার মূল আকর্ষন হল চড়ক গাছে সন্ন্যাসীর শলাকা বিদ্ধ ঘূর্ণন। সন্ন্যাসীরা তিন দিন আগে থেকে নিরামিষ খেয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রকার ফল- মূল তাদের খাবারের তালিকায় স্থান করে নেয়। চড়ক পূজার আগের দিন থেকেই ...

সরদহের নামকরণের ইতিহাস

ছবি
আঠারো শতকে শেষের দিকে এমন ছিল সরদহ জনপদের চিত্র রাজশাহী জেলার একটি ছোট্ট জনপদের নাম হল সরদহ বা সারদা। শিক্ষা-দীক্ষার দিক থেকে এই জনপদ অনেক আগে থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে প্রশিদ্ধ। সরদহের নামকরণ নিয়ে মোট তিনটি মতবাদ পাওয়া যায়।  ১: এক সময় এই অঞ্চলেরর বেশিরভাগ অংশ জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। নবাব মুর্শিদকুলী খানের সময় বর্গীরা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্থান আক্রমণ করে। তখন নবাবের অনেক অনুগত সেনা ও সাধারণ নাগরিক সারদা অঞ্চলে তাবু গেড়ে আশ্রয় নেয়। ফারসী ভাষায় তাবুকে শের বলে। শের থেকে ‘শেরদহ’। এই শেরদহ থেকে ‘সরদহ’ নামটি আসে।  ঐতিহাসিক বিচারে এটিই হল সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মতবাদ।  নবাব আলীবর্দী খাঁ এর সময় বর্গীর উৎপাত দমনে নবাবের সেনা ক্যাম্প পদ্মার পূর্ব চরে জঙ্গলের মাঝে স্থাপিত হয়। এই স্থানের বেশিরভাগই পদ্মায় বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বর্তমানে থানাপাড়ার চর নামে পরিচিত। ২: তারপরে সরদহ এলাকায় আবার ডাচ, ইংরেজ সহ বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানি এই অঞ্চলে তাদের নীল ও রেশম কুঠি স্থাপন করে। ডাচরা ১৭৮১ সালে এখানে রেশম কুটি নির্মাণ করে। তার আগ থেকেই এখানে রেশমের চাষ হত। পরে ব্রিটিশরা ১৮৩৫ সালে সেই কুটি ক...

চারঘাটের বৈশাখী মেলা/কালু পীরের মেলা

ছবি
প্রতি বছর চারঘাটে বৈশাখ মাসে বড়াল পাড়ে কালু পীরের মেলার আসর বসে। স্থানীয়ভাবে এই মেলা কালু পীরের মেলা হিসেবে পরিচিত। শত শত বছর থেকে চলে আসছে এই আসর। আগে বৈশাখ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার এই মেলার আসর বসত। কয়েক বছর হল প্রতি বৃহস্পতিবার আর শুক্রবার মেলা বসছে। সব বয়সি মানুষ এই মেলার অপেক্ষায় থাকে। কালু পীরের মেলা নিয়ে স্থানীয়দের কাছে বেশ কিছু কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কথিত আছে যে, কালু ও গাজী নামক দুই ভাইয়ের মধ্যে খুব মিল ছিল। কালু নামের এক সন্ন্যাসী তার আদ্ধাতিকতার জন্য বেশ প্রসিদ্ধ ছিলেন আর পীর উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি গঙ্গা পার হয়ে চারঘাটের প্রাচীন চন্দন শহর, তিজ্জমপুর প্রভৃতি গ্রামে আসতেন। তিনি পাথরের ওপর দাড়িয়ে নদী পার হতেন বলে কথিত আছে। কালু পীরের আগমন উপলক্ষে তাঁর ভক্তরা ভীড় জমাত। অনেকে অনেক সদায় নিয়ে আসতেন। আস্তে আস্তে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে মেলার আসর বসতে শুরু কের। ইতিহাসে সেটাই কালু পীরের মেলা হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে ভিন্ন মতো আছে। অনেকেই মনে করেন যে এটা কালু পীরের মেলা নয়। কালু পীর কোন কালে এই স্থানে অবস্থান করেননি। বস্তুত কালু ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক জমিদার সেকা...